
মোঃ আমির হোসেন
নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি হবিগঞ্জ জালাল স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। এ সময় তাকে বরণ করে নেন জেলা জামায়াতের ইসলামীর শীর্ষ নেতারা।
আমিরের আগমনকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের সমাগম হয়েছে। শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা দেখে আসছি, এ দেশে বংশানুক্রমে রাজার ছেলে রাজা হয়। আমরা সেই ধারা পাল্টে দিতে চাই। একজন সাধারণ শ্রমিকের সন্তান, সে যদি মেধাবী হয়, তাহলে তার মেধার বিকাশ ঘটিয়ে আমরা চাই, সে হবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সেই রাজনীতির ধারা আমরা চালু করতে চাই। এখন তারা জনগণের কাছে আসে ভোটের জন্য। এখন একেকজন দরবেশ-আউলিয়া হয়ে আসেন। তাঁরা আসেন বসন্তের কোকিল হয়ে। বসন্তের সুবাতাস উপভোগ করতে। ইলেকশনের সময় উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়ে পদ্মা-মেঘনা আর কুশিয়ারা নদী ভাসিয়ে দেন। যখন ইলেকশন শেষ হয়ে যায়, তখন আর তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায় না।’
জামায়াতের আমির বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর একে একে ৫৪টি বছর পার করেছে। একটি জাতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট সময় ছিল। ভিয়েতনাম আমাদের বহু পরে স্বাধীনতা পেয়েছে। ভিয়েতনাম এখন এ অঞ্চলের উন্নয়নের রোল মডেল। কিন্তু বাংলাদেশের কপালে কোনো ভালো উন্নয়ন করা যাচ্ছে না। এখনো বাংলাদেশে সন্ত্রাস হয়। দেশের মানুষের নিরাপত্তা নেই। চাঁদাবাজদের ভয়ে মানুষ অস্থির। দুর্নীতি আমাদের সমাজকে আগাগোড়া ছেয়ে ফেলেছে। এই বাংলাদেশ সবাইকে চেয়েছে। জামায়াত আমীর আরো বলেন,
আমরা অঙ্গীকার করে নির্বাচনের মাঠে এসেছি। আমরা ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজের হাত বন্ধ করে দেব। ব্যবসায়ীদের রাতের ঘুম হারাম হবে না। ফুটপাতের হকারকে চোখের পানি ফেলতে হবে না। চাঁদাবাজরা সাহস পাবে না দুর্নীতি করার। জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব যুবায়ের, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় আমির ও হবিগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী আবদুল বাসিত, একই দলের মহাসচিব ও হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী আহমদ আবদুল কাদির, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও হবিগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।