
যুবায়ের চৌধুরীঃ (স্টাফ রিপোর্টার)
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় সন্ত্রাসী গ্যাংয়ের তৎপরতা ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী রায়হান ও তার পরিবার বর্তমানে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ফজলে রাব্বি ও অ্যাডভোকেট শান্তের নেতৃত্বাধীন একটি গ্যাং দেশীয় অস্ত্রসহ রায়হানের বাসায় অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাসার সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে এবং এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
প্রাণভয়ে রায়হান ছাদ দিয়ে পাশের একটি ফ্ল্যাটে আশ্রয় নেন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সাহায্য চান। পরে থানার একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে অভিযোগ। উপস্থিত এক এসআই রায়হানকে পরদিন থানায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যাওয়ার পরামর্শ দেন।
পরদিন সকালে থানায় যাওয়ার পথে রায়হানকে অভিযুক্তদের লোকজন ধরে নিয়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জোরপূর্বক একটি ভিডিও ধারণ করা হয়, যেখানে তাকে নিজের সম্পত্তির মালিকানা অস্বীকার করতে বাধ্য করা হয়। এমনকি থানার ওসিকেও ফোন করে একই বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ।
পরে মুক্তি পেয়ে রায়হান স্বপরিবারে এলাকা ত্যাগ করেন এবং মানবাধিকার সংস্থায় অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এক গণমাধ্যমকর্মী অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা যায়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দায়িত্বে না থেকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকার কথা জানান—যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, এটি শুধু জমি সংক্রান্ত বিরোধ নয়; এতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। তবুও পুলিশ কেন মামলা নিতে নিরুৎসাহিত করছে এবং আদালতে যেতে বলছে—তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
প্রশ্ন উঠেছে: অস্ত্রসহ হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিক গ্রেফতার কেন হয়নি? থানার ভূমিকা কী শুধুই অভিযোগ গ্রহণে সীমাবদ্ধ? ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে?
শেষ কথা: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা যদি সত্য হয়, তবে তা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।